ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পায়রার ভাঙনে বিলীন ৬ বসতঘর, অস্তিত্ব সংকটে দুই গ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:৫৮:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:৫৮:১৫ অপরাহ্ন
পায়রার ভাঙনে বিলীন ৬ বসতঘর, অস্তিত্ব সংকটে দুই গ্রাম ছবি : সংগৃহীত
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীর ভাঙন আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পিঁপড়াখালী গ্রামে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৬টি বসতঘর। অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই নদী গ্রাস করছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। উপজেলার রামপুর, ভিকাখালী, পিঁপড়াখালী, হাজিখালী ও কাকড়াবুনিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র হওয়ায় বাড়িঘর, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকুও পাচ্ছে না। হঠাৎ বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ছয় পরিবারের মধ্যে রয়েছেন রুস্তুম সিকদার, কুদ্দুস, সহিদ হাওলাদার, বজলু হাওলাদার, আনোয়ার সিকদার ও মহসিন সিকদার। এর আগেও গত কয়েক মাসে পিঁপড়াখালী গ্রামের প্রায় ১১টি পরিবার পায়রা নদীর ভাঙনে তাদের বসতভিটা হারিয়েছেন।

নদীভাঙনের অব্যাহত বিস্তারে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভূখণ্ড। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় আধাপাকা ঘরবাড়ি নিজেরাই ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পিঁপড়াখালীর উত্তর দিকে কিছু জিওব্যাগ ফেলা হলেও শীতের মৌসুমে দক্ষিণ দিক থেকে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীভাঙনের কারণে জীবিকার তাগিদে বারবার বসতভিটা পরিবর্তন করতে হয়েছে তাদের। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে একসময় পিঁপড়াখালী গ্রামটি পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ভাঙনের শিকার বহু পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গত বছরও নদীভাঙনের আশঙ্কায় জাকির প্যাদার ঘরসহ ৪-৫টি বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট এলাকা ও ব্যস্ততম বাজারটি এখন সরাসরি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মেনিয়াবাদ ও পিঁপড়াখালী গ্রাম দুটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ইতোমধ্যে গ্রাম দুটির কয়েক হাজার একর ফসলি জমি, অসংখ্য বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পিঁপড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা ও সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড যতবারই বাঁধ নির্মাণ করে, কিছুদিন পর তা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বিশেষ করে পিঁপড়াখালী ও সুন্দ্রাকলিকাপুর এলাকায় ভাঙনের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। নদীর করাল গ্রাসে একসময়ের জমজমাট পিঁপড়াখালী বাজার এখন প্রায় বিলুপ্ত।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পিঁপড়াখালী পরিবার’-এর কর্মকর্তা সুলতান আহম্মেদ জানান, নদীভাঙনে এলাকার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমরান হোসেন বলেন, পিঁপড়াখালী এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে সার্ভে বা জরিপ কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জরিপ সম্পন্ন হলে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে ব্লক ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ ছাড়া ভাঙন প্রতিরোধের সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ বা বাজেট পাওয়া মাত্রই বাঁধের ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ